Ad Code

Responsive Advertisement

চুক্তিপত্র কেন দরকার ?

চুক্তিপত্র কেন দরকার ? 

ব্যবসা, লেনদেন, অঙ্গীকার অথবা অন্যান্য নানা প্রয়োজনে চুক্তি সম্পাদন করা লাগতে পারে। বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা  বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা-বেচার সময়  চুক্তি করা প্রয়োজন  পড়তে পারে । দোকান ক্রয়-বিক্রয় বা ভাড়ার সময় চুক্তিপত্রের দরকার পড়তে পারে। 

মানুষ মাত্রই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। পণ্যদ্রব্য আমদানি-রপ্তানি, জমি-জমা ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়, নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা, ব্যাংকে মেয়াদি হিসাব খোলা, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া, দোকান পজিশন ভাড়া দেওয়া-নেওয়া, জমি বন্ধক রাখা, নগদ অর্থ হাওলাত দেওয়া, হজ পালন কিংবা বিদেশ গমনের জন্য টাকা দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। 

লেনদেনের  ঋণ, পূঁজির জন্য চুক্তিপত্র সম্পাদন প্রয়োজন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত যেকোনো ধরনের কাজে চুক্তিনামা দরকার হয়। তবে চুক্তিপত্র ইচ্ছামত করলে হবে না । বরং সব ধরনের চুক্তির জন্যের কিছু বিধিবিধান রয়েছে। 

আশ্বর্য্যের ব্যাপার হল, ইসলাম ধর্মে  চুক্তিপত্র সম্পর্কিত একটি আকাট্য দলিল নাজিল হয়েছে। লেনদেন পরবর্তী অনাকাংখিত পরিস্থিতি এড়াতে লেনদেন করার পূর্বে উপযুক্ত স্বাক্ষীর উপস্থিতে চুক্তিপত্র সম্পাদনের জন্য কোরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে। 

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্র য়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন। [ সুরা বাকারা ২:২৮২ ]


মনে রাখা উচিত, কেউ যদি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হয় । তাহলে চুক্তির শর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চুক্তিপত্রের শর্ত মেনে চলার জন্যে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা হুকুম দিয়েছেন। কারণ চুক্তিপত্রের শর্ত মানার মাধ্যমে পারস্পরিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সর্ম্পক মজবুত হয় একই সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং এ সংক্রান্ত অনাকাংখিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।  

এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘

যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছ, তারা (চুক্তি রক্ষার ব্যাপারে) এতটুকুও ত্রুটি করেনি- না তারা কখনও তোমাদের বিরুদ্ধে অন্য কাউকে সাহায্য করেছে, তাদের চুক্তি তাদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই তোমরা মেনে চলবে।’ -সূরা তওবা: ৪

Post a Comment

0 Comments

Close Menu